ইসরায়েলে গাজা দখলের পরিকল্পনাকে ‘একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বার্তায় এই সিদ্ধান্তকে মানবতা ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। খবর সামা টিভির।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার গাজা অবৈধভাবে দখলের অনুমোদন একটি চলমান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধকে আরও তীব্র করবে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির যেকোনো সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেবে।’
শান্তির জন্য প্রকৃত সমাধান খুঁজে বের করার উপর গুরুত্বারোপ করে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে রাখবে, ততদিন শান্তি কেবল স্বপ্নই রয়ে যাবে।’
তিনি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে পাকিস্তানের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের অন্যায় আগ্রাসন বন্ধে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গাজা দখলের পরিকল্পনা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোর লঙ্ঘন এবং গাজায় সামরিক আগ্রাসন আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত বহন করে। পাকিস্তান এটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।’
বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘সাহসী ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ নিতে আবারও আহ্বান জানানো হয়।
পাকিস্তানের সিনেটর ইরফান সিদ্দিকী বলেন, ‘গাজার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইসরায়েলি ঘোষণা গোটা সভ্য বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। আন্তর্জাতিক বিবেক যদি এই লজ্জাজনক, অবৈধ এবং অনৈতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়, তবে তা নিপীড়ন ও হিংস্রতাকে বৈধতা দেবে। এই বিষয়ে নীরবতা মানেই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে উৎসাহ দেওয়া।’