যুদ্ধ থামাতে রাশিয়াকে সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হলে মস্কোর ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপসহ কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

 

সোমবার হোয়াইট হাউজে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। ৫০ দিনের মধ্যে সমঝোতা না হলে শতভাগ হারে শুল্ক বসবে। এটি হবে সেকেন্ডারি ট্যারিফ, যার ফলে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদাররাও এর আওতায় আসবে।’

 

বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে নতুন সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনে তা ন্যাটোর মাধ্যমে ইউক্রেনের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে থাকবে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

 

ন্যাটো মহাসচিব রুটও নিশ্চিত করেন, এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেন বিপুল অস্ত্র সহায়তা পাবে। তিনি বলেন, ন্যাটো এই সরঞ্জাম দ্রুত ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে দেবে।

 

মার্ক রুটের জন্য এটি ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ সফরের প্রথম সুযোগ। এর আগে গত জুনে হেগে ন্যাটো সম্মেলনে তিনি ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

 

ট্রাম্প প্রথম থেকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়ে এসেছেন। এমনকি নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের যুদ্ধনীতি নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে তিনি খুনি, তবে তিনি খুবই কঠিন একজন মানুষ।’

 

রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট সিস্টেম পাঠানো হবে, যা রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের পূর্বঘোষিত অস্ত্র সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে একপ্রকার অবস্থান পরিবর্তন হলো।

 

একইদিনে ট্রাম্পের বিশেষ দূত কিথ কেলগ কিয়েভ সফরে যান এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলেনস্কি এই বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বলে আখ্যা দেন এবং জানান, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, যৌথ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন ও ইউরোপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘সমর্থনের বার্তা ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

 

এদিকে একজন ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ‘কখনো না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়া ভালো। প্যাট্রিয়ট থাকায় এখন আমাদের পরিবারগুলো অনেক বেশি নিরাপদ।’

 

অন্যদিকে সোমবার রাশিয়া দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের দুটি গ্রাম দখলে নেওয়ার দাবি করেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

 

সোমবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। সভিরিদেঙ্কো সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘ইউক্রেন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে।’