‘গাজায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ চলছে’

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ‌মানবতার ভয়াবহ ব্যর্থতা ও নৈতিক পরাজয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গাজা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।

 

গুতেরেস বলেন, যারা পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্বে আছেন, তারা সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। গাজায় যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটিকে এখন আর অস্বীকার করা যাচ্ছে না।তিনি আরও বলেন, এই সংকট কেবল খাদ্য ঘাটতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনে দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

 

জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) নেটওয়ার্কের সর্বশেষ প্রতিবেদনে গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিস এলাকাতেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

মূল্যায়নে দেখা গেছে, গাজার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ 'ফেজ ৫'-এ রয়েছে, যা দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী স্তর। আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষ 'ফেজ ৪' বা জরুরি পর্যায়ের ক্ষুধায় ভুগছে।

 

তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল গাজার সাধারণ মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ২৬৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

 

শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই ইসরায়েলি হামলায় একটি ত্রাণ কাফেলা ও বিতরণকেন্দ্রে হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ১৩৩ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিকে ‘চরম মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।